কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবনে প্রথমবারের মত হাসপাতালে ঈদ করেছেন এবার। এর আগে চারবার কারাগারে ঈদ করেন তিনি। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো কারা হেফাজতে ঈদ করলেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তাই সেখানেই কেটেছে তার ঈদের দিনটি।
জানা গেছে হাসপাতালে খালেদার সঙ্গে আছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। তার তৈরি খাবার ও পরিবার থেকে পাঠানো খাবার ঈদের দিন খেয়েছেন খালেদা জিয়া।
মঙ্গলবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বলেন, একজন বন্দির মতো খালেদা জিয়া কারা জেল কোড অনুযায়ী খাবার পাবেন। ঈদের দিন অনুমতি সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। সেদিন তারা বেগম জিয়ার জন্য খাবারও নিয়ে আসতে পারবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেসব খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে খেতে দেবে।
কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়াকে ঢাকা কেন্দ্রীয় (কেরানীগঞ্জ) কারাগারের কারারক্ষীদের তৈরি পায়েস, সেমাই ও মুড়ি দেয়া হয়। তার খাবার তৈরি হয় চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডায়েট চার্ট অনুযায়ী।
খালেদা জিয়ার দুপুরের খাবারে ভাত অথবা পোলাও রাখা হয়েছে। ভাত অথবা পোলাও এর সঙ্গে তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ডিম, রুই মাছ, মাংস আর আলুর দম।
রাতের মেন্যুতে থাকছে পোলাও। এর সঙ্গে গরু অথবা খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন, পান-সুপারি এবং কোমল পানীয় থাকবে।
এছাড়াও এসব মেন্যুর বাইরে খালেদা জিয়া অন্য কোনো খাবার খেতে চাইলে তা কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারবেন। কিন্তু সেসব খাবার তাকে কারা কর্তৃপক্ষ দিতে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।
এবার নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে ঈদ হবে পঞ্চমবার। এর আগে ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দু’টি ঈদ কারাগারে কাটাতে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাবজেলে থাকার সময় ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথম উদযাপিত হয় রোজার ঈদ। এরপর ২০০৭ সালের ২১ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদও ওই সাবজেলেই উদযাপন করেন তিনি। ওই কারাগারে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে মুক্তি পান।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে পারেন। তারেক রহমানের পরিবার, কোকোর স্ত্রী ও মেয়েরা লন্ডনে থাকায় খালেদা জিয়ার ভাই, বোন ও তাদের ছেলে-মেয়েরা কারাগারে দেখা করতে যাবেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত খালেদা জিয়া। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দি।
আরো পড়ুন: