January 28, 2023, 10:44 am

#
ব্রেকিং নিউজঃ
সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত।সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভা অনুষ্ঠিত।বরুড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন’র উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ।তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে ৭ তম শ্রেণীর ছাত্র মাহীন কে পিটিয়ে আহত করল কারা ?নিখোঁজ সংবাদ😥সোনারগাঁয়ে আশা রিয়ারচর নাশকতা মামলার আসামীরা জামিনে এসে অস্ত্রের মহড়া এলাকাবাসী আতঙ্কে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরাপদ অভিবাসন ও পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়।কুমিল্লায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।পেকুয়ায় গলা কেটে টমটম নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত আটক।চন্দ্রগঞ্জ বাজার বণিক কল্যাণ সমিতি নির্বাচন-২০২৩ ১৮টি পদে প্রার্থী ২৭ জন, ৭টিতে একক প্রার্থী।

হবিগঞ্জ জেলার লাখাইয়ের হারিয়ে যাওয়া উঠতি যুবক উজ্জল এর সন্ধান মিলল।

হবিগঞ্জ জেলার লাখাইয়ের হারিয়ে যাওয়া উঠতি যুবক উজ্জল এর সন্ধান মিলল। তবে টগবগে জীবন্ত মানব হিসেবে নয় নিথর অনুভূতিহীন মৃত মানব হিসেবে।
ঘটনাটি খূলে বলি গত ২০/২/১৯ইং তারিখে সন্ধ্যে ৬.০০-৬.৩০ ঘটিকার সময় বাড়ী থেকে বের হয়েছিল উজ্জল। তার বাড়ী হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানাধীন পূর্ব মোড়াকরি গ্রামে । পিতা শাহ আলম মিয়ার চতুর্থ সন্তান উজ্জল। পড়ালেখার পাশাপাশি মোবাইল সার্ভিসিং এর কাজ করত সে। ঐ দিন সে আর বাড়ী ফিরে নাই। সে (উজ্জল মিয়া) গিয়েছিল তার প্রেমিকা ফারজানা আক্তারের বাড়ীতে। ফারজানা আক্তার একই থানার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। সে দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। প্রেমিক উজ্জল মিয়া রাত পৌনে নয়টার দিকে ফারজানার বাড়ীতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য মেলামেশা হয়। এ সময়ে মোবাইল ফোনে ভিকটিম উজ্জল মিয়া অন্যান্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে থাকে এবং মেসেজ আদান প্রদান করতে থাকে। এতে প্রেমিকা ফারজানা ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে সে প্রেমিকের এ ধরণের আচরন সহ্য করতে না পেরে তার মাথায় পাটা’র নুড়ি পাথর দিয়ে আঘাত করে । উপর্যুপরি নুড়ি পাথরের আঘাত এবং ভিকটিম এর হাতে পায়ে বটির কুপে উজ্জলের মৃত্যু হয়। ফারজানা বাউল গানের ভক্ত । সে বাউল গান উঁ”ুস্বরে বাজাতে থাকে কিং কর্তব্য বিমূড় ফারজানা কি করবে বুঝে উঠতে পারে নাই। এরপর সে ভাবল লাশ ঘরের মধ্যে রাখলে বিপদে পড়তে হবে। তাই সে শাবল ও কোদাল দিয়ে ঘরের মেঝে গর্ত করে লাশের কবর দেয়। সারারাত তার দুচোখে ঘুম আসে নাই। ভোর বেলা সে বাড়ী থেকে বের হয় ঢাকার উদ্দেশ্যে। ঢাকায় তার ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ী বাবা মা থাকতো। বাবাকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে ফোনে বলে। বাবা কিং কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়ে। অতঃপর কয়েকজন আত্মীয়কে বিষয়টি সম্পর্কে জানায়। ঘটনার ১০/১২ দিন পর বাবা ঢাকা থেকে ফিরে আসে নিজ বাড়ী ধর্মপুর গ্রামে। বাড়ীতে এসে আত্মীয়দের নিয়ে কোন এক মধ্যরাত্রিতে মাটি খুড়ে কিছুটা পঁচে যাওয়া লাশ তুলে নেয় । লাশ তুলে বস্তায় ভরে বাড়ী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে লাশের সাথে বস্তার মধ্যে মাটি ভরে মেহেদীপুরের বিলে একটি ডোবায় বস্তা সমেত লাশটি ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই উজ্জল চিরতরে নিখোঁজ হয়।
ছেলের না ফেরা দেখে উজ্জলের পিতা ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ছয়দিন পরে অর্থাৎ ২৬/২/১৯ইং তারিখে লাখাই থানায় জিডি এন্ট্রি করে (জিডি নং-১০২৬)। শুরু হয় তদন্ত। প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম উজ্জলের মেলামেশা চলাফেরা গতি প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা একটা সুস্পষ্ঠ ধারণা লাভ করি। উজ্জলের চারিত্রিক ও সামাজিক বৈশিষ্ঠ সম্পর্কে আমরা জ্ঞাত হই। তার বন্ধু-বান্ধবীদের মোবাইল নম্বর সম্পর্কে জ্ঞাত হই। মোবাইল নম্বর সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে ভিকটিমের বন্ধু বান্ধবীদের জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রায় দুই মাস যাবৎ খোঁজ না মিলাতে আমরা কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ি। তার কাছের বন্ধু বান্ধবীদের তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করি। অতঃপর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমি ২১/৪/১৯ইং তারিখ ফারজানা ও তার পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লাখাই থানায় নিয়া আসি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমি লাখাই থানার অফিসারদের নিয়ে দীর্ঘ টানা ৯ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাই। সেগুলো উজ্জলের সন্ধান পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। হাল ছেড়ে দেইনি। পরের দিন অর্থাৎ ২২/৪/১৯ইং আবার সকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ফারজানা উজ্জলকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তার বর্ণনা দেয়। তার পিতা ঘরের মেঝ থেকে লাশ সরিয়ে মেদী বিলের পানিতে ডুবিয়ে রাখার বর্ণনা দেয়। বর্ননা শুনে আমরা আশ্চর্যান্বিত হই। বিষয়টি পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ উল্যা বিপিএম-পিপিএম স্যারকে জানাই। স্যারের নির্দেশে ২২/৪/১৯ইং তারিখ আড়াইটার দিকে ফারজানার বাবা মঞ্জু মিয়াকে নিয়ে লাশ উদ্ধারের জন্য আমি লাখাই থানা পুলিশের একটি টিম নিয়ে মেদী বিলের দিকে রওয়ানা দেই। প্রায় ১ কিঃমিঃ হেটে বিলের মধ্য থেকে মঞ্জু মিয়ার দেখানো জায়গা থেকে আনুমানিক বিকাল ০৪.১৫ ঘটিকায় বস্তায় ভরা গলিত লাশ উদ্ধার করি। পানি থেকে লাশটিকে ডাঙ্গায় তুলে ভিকটিমের পিতার মাধ্যমে নিশ্চিত হই এটিই হারিয়ে যাওয়া হতভাগা উজ্জলের লাশ। হাজার হাজার কৌতুহলি গ্রামবাসী ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকের সামনে উদ্ধার হয় ভিকটিম উজ্জলের লাশ।
এই ঘটনার পিছনের ইতিহাসে যাই। ঘটনার প্রায় ৩/৪ মাস আগে ফেইসবুকের মাধ্যমে ফারজানার সাথে পরিচয় হয় ভিকটিম উজ্জলের। ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয় প্রেমের সম্পর্ক। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় ভিকটিম একই সময়ে একাধিক মেয়ের সাথে মোবাইল ফোন ও ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতেই বাধে বিপত্তি।
বর্তমানে উঠতি বয়সী সন্তানদের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে প্রযুক্তির অপব্যবহার ফেইসবুক/মোবাইল ফোনে আসক্তি। সন্তান কার সাথে মিশে, কোথায় যায়, কি করে কখন বাড়ী ফিরে সে বিষয়ে অভিভাবকের খবর না রাখা, নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অগ্রহনযোগ্য সঙ্গতিহীন আকাশ সংস্কৃতির চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষাদান ও গ্রহনের অভাব, অসহিষুতা ও সুস্থ ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার কারনেই মূলত কিশোর অপরাধ বাড়ছে। সমাজের প্রত্যেকটি ব্যক্তির নাগরিক হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন,ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দূর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আমরা একটি বসবাস উপযোগী আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মানে সক্ষম হবো। আর এটি সম্ভব হলেই উজ্জলের মতো কিশোরদের লাশ হওয়ার পথ রুদ্ধ হবে।

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১