October 23, 2021, 9:52 pm

#
ব্রেকিং নিউজঃ
লাকসামে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর উদ্যোগে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও  খাবার বিতরণ অনুষ্ঠিত।আধুনিকতার আরেক নাম মমতাময়ী হাসপাতাল।বন্য ও প্রাণী রক্ষার দাবিতে মানববন্ধনসাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনঅ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকের মৃত্যুতে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির শোকদেবীদ্বারে উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক আতিকুর রহমান বাশার’র ৫৯ তম জন্ম বার্ষিকী পালননিয়ামতপুরে নবাগত ইউএনওর যোগদান ।।কুমিল্লায় শচীন দেব বর্মণের ১১৫তম জন্মদিন পালিতনাকইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদানপেকুয়ায় থানা প্রশাসনের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

সৌদির ইয়াবা বাজার নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট!! হুমকিতে প্রবাসীরা

 মোঃ মহিউদ্দিন সরকার কুমিল্লা: মিয়ানমার থেকে আসা মাদক ইয়াবার চালানের বড় একটি অংশ পাচার হচ্ছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। মাদক সিন্ডিকেট প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে ইয়াবার চালান পাচার করছে। সেসব দেশে একশ্রেণির প্রবাসী বাঙালির সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে ইয়াবাবাজার। বিশাল বিস্তৃতি ঘটানো হয়েছে মাদক নেটওয়ার্কের. সৌদিতে বাঙালি অধ্যুষিত প্রায় প্রতিটি শহরেই চলছে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। দেশে বসে কিংবা বিদেশ থাকা সেখানকার একাধিক সিন্ডিকেট প্রধানদের আওতায় প্রায় ৪ শতাধিক ছোট বড় সেলাররা রাতদিন মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা পৌঁছানোর কাজে ব্যস্ত থাকছেন। সূত্র জানান, সৌদিতে মাদক সিন্ডিকেটের তৎপরতার কারণে সে দেশে অবস্থানরত বাঙালিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা মহামারিতে থেমে নেই ইয়াবার কারবার। বিগত দিনে লগডাউনের করনে কিছুটা সঙ্কট দেখা দেয়ায় ১০০ থেকে ১৫০ রিয়েলেও বিক্রি হয়েছে, সরবরাহ বেশী থাকলে ৪০-৫০ রিয়েলে তা পাওয়া যায় বলে জানায় প্রবাসীদের সূত্রগুলো। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, ইসলামী রীতিনীতিকে প্রাধান্য দিয়েই সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান তৈরি হয়েছে। সে দেশে মাদক কেনাবেচা, বহন ও মাদক আখড়া গড়ে তোলার বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে এবং মাদক মামলায় সৌদিতে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। তা ছাড়া মাদকবাজার গড়ে তোলার পেছনে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও দেশের শ্রমবাজার চরম হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সচেতন প্রবাসীরা। এদিকে মাদক পাচার ও বাজারজাতের ঘটনায় অনেক প্রবাসীর হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থের বড় অংশই ইয়াবা বাজারে খরচ হয়ে যাচ্ছে। এর কারন পাচারকৃত মদক ইয়াবার খদ্দের মুলত বাংলাদেশী বিপথগামী প্রবাসীরাই। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদিয়ান গুটি কয়েক নাগরিকরা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট হিসেবে গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। আর তাদের ইয়াবার নেশা শেখাচ্ছে মাদকের বড় ডিলাররা। এদিকে সৌদিতে মাদকে আগ্রাসনের কারনে সৌদিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের অন্যত্যম ও প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে ইয়াবা পাচার ও মাদকবাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের মাদক মাফিয়া খ্যাত বড় ৩ টি সিন্ডিকেট তৎপর রয়েছে বলে প্রবাসীসহ বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে জানা গেছে। এদের মধ্যে বড় দুটি সিন্ডিকেটের মুল কুমিল্লার এবং অন্যটি কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার। গত বছর কুমিল্লার কালির বাজার ধনুয়াখলা এলাকর সৌদি ইয়াবা ডন হিসেবে পরিচিত শাহ আলম এর সহযোগী মুন্সীগঞ্জ জেলার সাইদুর নামে একজন রিয়াদে ১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। যে বর্তমানে দাম্মাম জেলে রয়েছেন এখনো। পরে তার দেওয়া তথ্যসূত্র ধরেই সন্দেহভাজন আরো বেশ কিছু প্রবাসী বাঙালি ও একজন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তবে মাল্টি ভিসার সুবাদে গ্রেফতার এড়িয়ে দেশে চলে আসে তার অন্যতম সহযোগী। এর আগেও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মহেশপুর গ্রামের সৌদির আরেক ইয়াবা ডিলার মোতালেব ৫ হাজার পিস ইয়াবা ও এক ফিলিপাইনি নারীসহ সৌদি গোয়েন্দাদের হাতে আটক হয়। সৌদির বড় ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেটের আরেকজন বুড়িচং উপজেলার সোন্দ্রম এলাকার শাহপরান। সৌদি প্রবাসীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মুলত কুমিল্লার মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই পুরোপুরি চলছে সৌদি আরবের মাদক ইয়াবা বাজার। মুসলমানদের পবিত্র ভূমি মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, জেদ্দা, আল কাসিম, ভাতা, হারাসহ, সালভোক, মালাজ সহ বাঙ্গালী অধ্যুষিত প্রায় প্রতিটি শহরেই রয়েছে বড় ইয়াবা ডন ও ডিলারদের নিজস্ব কিছু এজেন্ট। আর এদের মাধ্যমে ইয়াবার একচ্ছত্র বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। মোবাইল সেলসম্যানদের মাধ্যমে ফোনে ফোনে পৌঁছে দেয়া হয় সেবনকারী প্রবাসীদের ঘরে ঘরে। এদিকে অধিক লাভ আর রাতারাতি বড়লোক হওয়ার আশায় অনেক সেবকারীরাও জড়িয়ে পরছে এ ব্যবসায়। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রলোভন প্রতারণায় ও অল্প সময়ে ধনী হওয়ার লোভে অনেক প্রবাসী ইয়াবা সিন্ডিকেটে বিনিয়োগ করে নিঃস্বও হয়ে গেছেন। ইয়াবা বাণিজ্যে পুঁজির নামে যারাই মোটা অঙ্কের টাকা আগাম বিনিয়োগ করেছেন, সিন্ডিকেট প্রধানরা তাদের অনেকেই সামান্য কিছু ইয়াবা দিয়ে কিংবা কৌশলে অল্প কিছু ইয়াবা দোকান বা রুমে রেখে সৌদি গোয়েন্দা ও পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে পাওনা টাকা পুরোপুরি আত্মসাৎ করেছেন। আবার বেশী লাভ দেয়ার কথা বলে দেশ থেকে বাকীতে ইয়াবার জোগান দেয়া মাদক কারবারিদের থেকে নেয়া মাল সে দেশে ধরা পড়ার কথা বলে তাদের টাকা মেরে এই সিন্ডিকেট প্রধানদের কয়েকজন হয়েছেন রাতারাতি কোটিপতি। তবে এসবের সত্যতা জানার পর সৌদি ইয়াবার ডিলার সেদেশের প্রশাসন থেকে বেঁচে দেশে এলেও পাওনাদারদের ভয়ে নিজের গ্রাম বা এলাকায় আসতে পারেন না।

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১