November 28, 2022, 7:03 pm

#
ব্রেকিং নিউজঃ
কাজীরবেড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিজ মেম্বরের নেতৃত্বে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ।অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা -তথ্যমন্ত্রী।মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সরন সভা করেছে নিউইয়র্কে ভাসানী ফাউন্ডেশন।জয় হোক মরহুম আবুল হাশেম ভূঁইয়া’র ! শোকসভায় বক্তৃতার যবনিকায় ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ভূঁইয়া।এফবিজেও’র সম্মাননা পদক পেলেন লায়ন এ জেড এম মাইনুল ইসলাম।এফবিজেও’র বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত।ভারত থেকে স্বর্ণপদক অর্জন করলো শ্রীমঙ্গলের আবেদ আহমেদ।ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় দেখতে আম বাগানে হাজারো মানুষের ঢল।চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমদানী ও রপ্তানী ব্যবসা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা।কুমিল্লা ইয়ামিন সুমনের আবারও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার-১

মহেশপুরে কোঁদলা নদীর বুকে ১০০ পুকুর খুরে ভুমিদস্যুরা করছে মাছ চাষ।

মহেশপুরে কোঁদলা নদীর বুকে ১০০ পুকুর খুরে ভুমিদস্যুরা করছে মাছ চাষ।

মিজানুর রহমান,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে কমপক্ষে ১’শ টি পুকুর কেটে সীমান্তবর্তী ইছামতির শাখা এক সময়কার প্রমত্তা কোঁদলা নদীর পুরো ২৫ কিলোমিটার অংশ দখল করে নিয়েছে ভুমিদস্যূ দখলদাররা। সেখানেকরছে মাছের চাষ, দিয়েছে লীজ। শুধু পুকুর নয় লাগিয়েছে গাছ, গড়ে তুলেছে বসতি–পাকা স্থাপনাও।ঝিনাইদহের মহেশপুরে ইছামতি’র শাখা এই কোঁদলা নদীতে দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশী সময় ধরে এমন অবস্থা চললেও পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক বা ভুমি অফিস নেয়নি কোন পদক্ষেপ। স্থানীয়দের অভিযোগ নদীটির প্রবাহ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে ৮ থেকে ১০টি খাল–বিলের পানি ও ১২৩ টি মৌজার কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতায় ধান সহ কোন ফসল হচ্ছে না।
এলাকার বয়োবৃদ্ধরা বলছে চৈত মাসে সাঁতার কাটা হতো মহেশপুরের কোঁদলা নদীতে। এটি একটি পুরাতন নদী কিন্তু এখন পুকুর হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ নদীকে পুকুর করায় হাজার হাজার বিঘা জমিতে আবাদ হচ্ছে না। এসব জমিতে আমন, ইরি, বোরো ধানের চাষ করা হতো। স্থানীয় জয়ন আলী, লুৎফর রহমানসহ সবার দাবি সব বাঁধ আর পুকুর উচ্ছেদ করতে হবে।ব্রীজ আছে কিন্তু নদী নেই, আগে নদীতে ১২মাস পানি থাকত, খালের পানি নদীতে না আসায় জলাবদ্ধতা হয় বলে তাদের অভিযোগ
সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে খোজ নিয়ে জানাগেছে, কোদলা একটি সীমান্ত নদী। এটি ভারত সীমান্ত থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার কিছু অংশ হয়ে আবার ভারতে চলে গেছে। মহেশপুর ভুমি অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড়, ন্যাপা, কাজিরবেড়, বাশবাড়িয়া ও যাদবপুর ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে এই নদী। নদীটির বাংলাদেশ সীমান্তে দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২৫ কিলোমিটার।
নদীর পাড়ের বাসিন্দা বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শাহজাহান আলী বলেন, কোদলা নদীটি ভারত থেকে বাংরাদেশে এসে আবার ভারতে চলে যাওয়ায় বছরের সব সময়ই প্রচুর পানি থাকতো। এখনও ভারতের মধ্যের অংশে প্রচুর পানি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সীমানায় দখলের পর দখল হওয়ায় নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য যে খাল আকৃতির রয়েছে সেই স্থান দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, নদীর বাঁশবাড়িয়া অংশে বেশি দখল করা হয়েছে। এই অংশে শতাধিক দখলদার বড় বড় পুকুর কেটেছেন। সেই সঙ্গে তারা নদীর মধ্যে বৃক্ষ রোপন করেছেন। যেগুলো বড় হয়ে নদীকেই আড়াল করে ফেলেছে। আর এই দখলের কারনে বেশ কিছু গ্রামের কৃষকদের চাষযোগ্য জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারনে ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। যে কারনে তারা ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারেন না।
অন্যদিকে দখলদাররা বলছেন, পুকুর কেটে মাছের চাষ করায় এলাকার মানুষের বিশাল উপকার হচ্ছে। তারা আরো বলছে নদীর পানি শুকিয়ে য্ওায়ায় মাছ চাষ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল জানান, নতুন খতিয়ান খুলে জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ড করে ভুমিদস্যুরা সবটুকু কোঁদলা নদী দখল করেছে। এই কোদলা নদী দিয়েই বেশ কয়েকটি নদী ও বিলের পানি বের হয়। এছাড়া বড়বিল, কেউরোর বিল, ঢলঢলে বিল, তিথির বিল, পুটিমারি বিলসহ বেশ কয়েকটি বিলের পানি খালে নামে। সেই খাল থেকে পানি চলে যায় কোদলায়। আর এই গোটা এলাকায় ৫ শাতাধিক গ্রাম রয়েছে। যে গ্রামের ও গ্রামগুলোর মাঠের পানি কোদলা দিয়ে নিষ্কাশন হয়ে তাকে। আব্দুল মালেক আরো জানান, কোদলা নদীটির প্রস্ত ১৪০ থেকে ১৫০ ফুট। কিন্তু দখলের কারনে তা কমে মাত্র ২০ থেকে ৩০ ফুট আছে। কোনো কোনো স্থানে এর থেকেও কমে মাত্র ১০ ফুট দাড়িয়েছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়ন এলাকাতেই বেশি দখল হয়েছে। এই এলাকাতে শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে। যা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অবশ্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভন্ন দপ্তরে এই দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী খননের জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে অভিযোগের তীর ওঠা ভুমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন অন্যকথা। বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের সহকারী ভুমি কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম জানান, নদীর জায়গা দখলের সুযোগ নেই। তবে অনেকে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে জমি দাবি করছেন। আরএস রেকর্ড সম্পন্ন না হওয়ায় এখনই বলা যাচ্ছে না নদী জায়গা কেউ দখল করেছে কি না।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান সবুজ বললেন, নদী সরকারি সম্পত্তি এবং সিএস রেকর্ডে নদী হিসাবে আছে, কিন্তু আরএস রেকর্ড ভুমি দস্যূরা এই রেকর্ড করছে। এটি ভুমি অফিস বলতে পারবে জানিয়ে তিনি বললেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা পুকুর উচ্ছেদ করে ছোট নদী–খাল, জলাশয় পূন:খনন প্রকল্পের আওতায় নদীটি খনন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় সব দখল হয়ে গেছে কার করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানিয়েছেন ম্যাপ অনুযায়ী কোঁদলা ভারত থেকে আসা একটি সীমান্তবর্তী নদী। ভারত সীমান্ত থেকে আসা নদীগুলো সাধারনত পানি থাকে না, আস্তে আস্তে এটি দখলমুক্ত ও প্রবাহ তৈরী করা হবে।

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০