December 1, 2022, 6:17 am

#
ব্রেকিং নিউজঃ
সমবায় পদক পেলেন লাকসাম প্রেসক্লাবের সভাপতি- তাবারক উল্ল্যাহ কায়েস।আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল অটিজম আক্রান্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু।কুমিল্লা বড়জলা সীমান্ত থেকে ২মাদক কারবারি গ্রেপ্তার; মাদক উদ্ধার।আত্মাহত্যা, বাল্যবিবাহ ও মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক মত বিনিময় সভা।কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ অভিষেক অনুষ্ঠিত।ধর্মপুরের মাদক সম্রাজী সাফিয়া গ্রেপ্তার ; জেল জরিমানা।ঝিনাইদহ মহেশপুরে ১১ কেজি সোনা উদ্ধার।হাজী আবদুল সাত্তার ফাউন্ডেশন কর্তৃক বৃত্তি পরিক্ষা।কুমিল্লায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড।এসএসসি দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আ. হাকিমের শুভেচ্ছা।

বেঈমান কে? By Niপা সিকদার!

বেঈমান কে?

রুবি নামের এক সুন্দরী মহিলা সড়ক দূর্ঘটনায় তার পায়ে আঘাত পায় দু তিন মাস যাবত চিকিৎসা চলে পরে সে আঘাত ইনফেকশন ধারণা করে,পঁচে যায় একসময় জঘন্য পুঁজে পরিনত হয়। কোনভাবে কোন ঔষধে কাজ করেনা ডাঃ বলেছে সাতদিনের ভিতর তার পা অপারেশন না করলে পা কেটে ফেলে দিতে হবে।হিসাব করে দেখলো অপারেশন বাবদ তার দুলক্ষ টাকা প্র‍য়োজন এত টাকা সে কোথায় পাবে?
তার উপার্জনে তার সংসার চলে।অসুস্থতায় এ দুমাস তার সংসারের বেহাল দশা।
যাইহোক কি আর করা আত্মীয়-স্বজন এদিক ওদিক চারদিক ছোটাছুটি করে কোনভাবে টাকা সংগ্রহ করতে পারলোনা।
মনেমনে সে দূর্বল হয়ে পড়ে শেষ পযন্ত পা দুটি কেটে ফেলেই দিতে হবে এছাড়া আর উপায় নেই।পরিচিত প্রানপ্রিয় যারা এতদিন তাকে ছাড়া বাঁচতো না তারাও এ বিপদের কথা শুনে তালগাছে উঠে বসে আছে।
বিপদে চেনা যায় কে আপন কে পর।
অর্থ দিয়ে সাহায্য করা বড় বিষয় নয় বিপদে যারা সাহস যোগায় তারাও কম সাহায্যেকারী নয়।
এ দুমাসে রুবি কাঁদতে কাঁদতে চোখের জুৎ শেষ এখন আর কেঁদে কি হবে? এতগুলো টাকা সাতদিনে তো দূরের কথা এ জনমেও সে ব্যবস্থা করতে পারবেনা।
পা কেটে ফেলার সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ।হাসপাতাল হতে ঔষধ নিলে অনেক খরচ তাই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফার্মেসি হতে ব্যক্তিগত ঔষধ ইনজেকশন কিনতে যায়।
ঔষধ কিনার শেষ পর্যায়ে পরিচিত হয় নিয়ন নামের এক ভদ্রলোকের সাথে।
রুবি ঔষধ কিনতে কিনতে তাকে আড়চোখে দেখছিলো,বেচারা লোকটা অনেকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে আছে তার চোখে মুখে নানান প্রশ্নবোধক চিহ্ন কি যেন বলতে চায় কিন্তু সাহস পায়না।
রুবির ঔষধ কিনা শেষ,এতগুলো ঔষধ হাতে বয়ে নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল পাশে এক ভদ্রলোকের সাহায্যে চাইলো সে এক কথায় পারবোনা বলে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
কি আর করা কোনমতে দু হাতে কষ্ট করে বয়ে নিলো,দু কদম হাঁটতেই নিয়ন বললো আপি যদি কিছু মনে না করেন একটা থলে আমার হাতে দিন।ধন্যবাদ এই নিন..
পথিমধ্যে পরিচয় হলো দু জন দুজনার সমন্বয় জানলো।নিয়ন রুবির কথা শুনে তার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে লাগলো।রুবির পরিবারের সাথে পরিচিত হলো এবং করুণ মুহুর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো নগদ দুলক্ষ টাকা চেক রুবির হাতে ধরিয়ে দিলো।প্রথমত রুবি রাজি ছিলো না, পরে চিন্তা করলো আমি আগে সুস্থ হই তারপর না হয় উপার্জন করে মাস-মাস অল্প অল্প করে তাকে সব টাকা ফিরিয়ে দিবো।
অপারেশন করলো রুনা আবার সুস্থ জীবন ফিরে পেলো।আবার আগের মতো সব প্রিয়জন তার দরজায় কড়া নাড়তে লাগলো।
নাড়ুগোপালরা যতই কড়া নাড়ুক তাদের দিকে রুবির আঁড়চোখে, কারণ বিপদ মূহুর্তে শান্তনা দেওয়ার মতো সে কাউকে কাছে পায়নি।
নিয়ন যদি ফেরেশতা রূপ নিয়ে সে মুহূর্তে না আসতো আজ কি যে হতো তা খোদাই জানে।
নিয়নের কাছে রুবি কৃতজ্ঞ শুধু কৃতজ্ঞ বলা ভুল হবে অনেকটা তার প্রতি দূর্বল বলা চলে।
নিয়ন রুবিকে প্রস্তাব দিলো তাকে বিয়ে করবে। যদিও এর আগে নিয়নের আরো আটটা বউ আছে/ রুবি বিষয়গুলো জানে।তবু্ও তার প্রতি একবিন্দু ঘৃনা আসেনা।কাউকে যদি মন থেকে ভালোলাগে তার কোন দোষই দোষ মনে হয়না।
মদ,গাজা,নারী নাচানো যত কূ অভ্যাস আছে সব নিয়নের মাঝে নিহিত।রুবি চিন্তা করলো বিপদের দিনে যদি নিয়ন আমার পাশে না থাকতো তাহলে আজ আমার মরনদশা ছিলো।
আমি আমার ভালবাসা দিয়ে নিয়নকে একজন সুস্থ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবো।ভালবাসা দিয়ে নাকি পাথরের বুকে ফুল ফুটানো যায় তাহলে আমি কেন পারবোনা নিয়নকে ভালো একজন মানুষ হিসাবে গড়তে?তার মনটাতো বিশাল যদি বিশাল না হলে সে কি একদিনের পরিচয়ে এতগুলো টাকা দিয়ে আমাকে বিপদ হতে উদ্ধার করতো?
তাদের বিয়ে হলো বাট এক সাথে উঠা বসা থাকার সৌভাগ্য হলোনা, প্রতিদিন গভীর রাতে নিয়ন নেশা করে ঘরে ফিরে ।বিভিন্ন নারীর সাথে ভিডিও কলে প্রেমময় বাজে আলাপ। রুবি তাকে হাদিস কোরআনের উক্তি দিয়ে বুঝায় চোখের জল,শাসন,ভালবাসা সবকিছুর বিনিময়ে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে কিন্তু যেই লাউ সেই কদু।বরং বেশি বাড়াবাড়ি করলে রুবির গায়ে হাত তুলে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করে।রুবি তার স্ত্রী এ কথা কারো কাছে স্বীকার করতে রাজি নয়।আর দশটা পতিতা নারীর মতো তাকে মনে করে।
রুবির কথার আওয়াজ শুনলেও নিয়নের গা জ্বালা পোড়া করে দু-জনে থাকার বিছানা ভিন্ন। দরকার মনে হলে কথা বলে না হলে নাই।
এভাবে দেড় মাস চলতে থাকে।দেড় মাস পর রুবিকে ফেলে সে চলে যায় দূর-দূরান্তে তার কোন খোজ নেই।রুবি বহুত কান্নাকাটি করে নিজেকে নিজে শান্তনা দিতে লাগলো মন চাইলেও ভালবাসার মানুষটাকে সহজে ভুলা যায়না। এভাবে কষ্ট পেতে থাকলে রুবি আবার অসুস্থ হয়ে যাবে তার পরিবার কষ্ট পাবে তাই সে নিজেকে নিজে বুঝিয়ে নিয়নের ভাবনা মাথা হতে ঝেড়ে ফেললো। ভালো একটি চাকরি যোগাড় করে নিলো।নিয়নের কথা ভুলতে আগের বন্ধু বান্ধবের সাথে আবার চলাফেরা শুরু করলো এখন সে চাকরি করছে সবমিলিয়ে ভালোই দিন কাটছে।নিয়নের স্মৃতি তার কাছে আজ অতীত। তিন মাস পর নিয়ন আবার রুবির মোবাইলে ফোন করে সে আবার সংসারে ফিরিয়ে নিতে চায়।নিয়নের কাজ হলো সে ফিরিয়ে নিবে দু একদিন ব্যবহার করবে আবার রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিবে। এ কদিনে রুবি তার এমন নাটক বহু নারীর সাথে দেখেছে।তাই সে আর নিয়নের কাছে ফিরে যাবেনা।ওদিকে নিয়ন মাতাল হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বললো রুবিকে সে দেখে ছাড়বে তাকে চোখের সামনে পেলে এমন শিক্ষা দিবে যেন সে কোনদিন কারো সাথে বেইমানি না করে।
সময় অসময়ে বেইমান নষ্ট নারী বলে ফোনে গালিগালাজ করতে থাকে।
রুবির বিপদের দিনে সাহায্য করছে এটা নিয়েই নিয়ন মাতোয়ারা।নিয়ন রুবির ছবি দেখিয়ে সকলের কাছে বেইমান,নষ্ট মহিলা বলে পরিচয় করায়।তার কথা শুনে নিয়নের বন্ধুরা রুবিকে ধিককার জানায়।এক পক্ষের শুনে কাউকে দোষী সাবস্ত করা যায়না।আবেগ তাড়িত হয়ে আমরা অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত সহজ ভাবে করে ফেলি পরে দিয়ে নিজে নিজেই পস্তাই।
বিয়ের পর নিয়ন রুবিকে কি শাস্তি দিলো এটা তার বোধগম্য নয়।সব নারী চায় স্বামীর কাছ হতে স্ত্রীর অধিকারটুকু রুবিও ঠিক তেমনটি চেয়ে ছিলো কিন্তু তার ভাগ্য জোটেনি।
নেশাটে,মূর্খ্য,মিথ্যাবাদী লোকগুলো নিজের দোষ ধামাচাপা দেওয়ায় উস্তাদ।

প্রশ্ন হলো গল্পটায় বেঈমান কে?
১)রুবি
২)নিয়ন

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১