December 1, 2022, 7:55 am

#
ব্রেকিং নিউজঃ
সমবায় পদক পেলেন লাকসাম প্রেসক্লাবের সভাপতি- তাবারক উল্ল্যাহ কায়েস।আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল অটিজম আক্রান্ত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু।কুমিল্লা বড়জলা সীমান্ত থেকে ২মাদক কারবারি গ্রেপ্তার; মাদক উদ্ধার।আত্মাহত্যা, বাল্যবিবাহ ও মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক মত বিনিময় সভা।কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ অভিষেক অনুষ্ঠিত।ধর্মপুরের মাদক সম্রাজী সাফিয়া গ্রেপ্তার ; জেল জরিমানা।ঝিনাইদহ মহেশপুরে ১১ কেজি সোনা উদ্ধার।হাজী আবদুল সাত্তার ফাউন্ডেশন কর্তৃক বৃত্তি পরিক্ষা।কুমিল্লায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড।এসএসসি দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আ. হাকিমের শুভেচ্ছা।

দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে

দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে
রাজিয়া শাহরিন রিয়া

কুসুমের মা কুসুমের বাবাকে বললেন,
আমি তো পিঁয়াজ-মরিচ কেটে রেখেছিলাম,
কেউ তো গোশত পাঠালো না !
প্রতিবেশীরা আমাদের কথা ভুলে গেলো না তো ? আপনি কি একটু গিয়ে দেখবেন ?

কুসুমের বাবাঃ তুমি তো জানো আজ পর্যন্ত কারো কাছে আমি হাত পাতিনি
আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই
কোন না কোন ব্যবস্থা করে দেবেন ।

দুপুরের পর পীড়াপীড়িতে বের না হয়ে পারলেন না।
প্রথম গেলেন বড় সাহেবের বাড়ীতে ।
বললেন,বড় সাহেব ! আমি আপনার পড়শী । কিছু গোশত দেবেন ?

গোশত চাইতেই বড় সাহেবের চেহারা গোস্বায় লাল হয়ে গেল । তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, কি জানি কোত্থেকে গোশত চাইতে চলে আসে-বলেই ধরাম করে দরজা বন্ধ করে দিলেন ।

অপমানে কুসুমের বাবার চোখে পানি চলে আসলো ।
ভারী পায়ে চলতে চলতে এবার গেলেন মিঁয়া সাহেবের ঘরের দিকে,
দরজায় করাঘাত করে বিনীতভাবে
কিছু গোশত চাইলেন ।
মিঁয়া সাহেব গোশতের কথা শুনেই বিরক্তিভরে তাকালেন ।
পলিথিনে কয়েক টুকরো গোশত দিয়ে
দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলেন ।
যাক ছোট মেয়েটাকে তো একটা বুঝ দেয়া যাবে, এমনটা ভাবতে ভাবতে কুসুমের বাবা ঘরে ফিরে এলেন।
ঘরে ফিরে পলিথিন খুলে দেখলেন
শুধু দুটো হাড্ডি আর চর্বি ।
চুপচাপ রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

এরই মধ্যে ছোট কুসুম
বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা !
গোশত লাগবে না। আমি গোস্ত খাবো না, আমার পেট ব্যাথা করছে।
মেয়ের একথা শুনে বাবা আর চাপা কান্না ধরে রাখতে পারলেন না ।

এমন সময় বাইরে থেকে
সবজি বিক্রেতা আকরাম ভাই ডাক দিলো । কুসুমের বাপ ঘরে আছেন ?
কুসুমের আব্বু দরজা খুলতেই আকরাম ভাই তিন- চার কেজি গোশতের একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে বলল, গ্রাম থেকে ছোট ভাই নিয়ে এসেছে । এতো গোশত কি একা খাওয়া সম্ভব, বলেন ?
এটা আপনারা খাবেন ।
আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় কুসুমের বাবা
ভেজা চোখ মুছতে লাগলেন ।
অন্তর থেকে আকরামের জন্য দোয়া করতে লাগলেন।
গোশত রান্না করে সবাই মজা করে খেয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচন্ড তুফান শুরু হলো ।
বিদ্যুৎও চলে গেল ।
সারাদিন গেল, এমনকি দ্বিতীয় দিনও বিদ্যুৎ এলো না তুফানে ট্রান্সমিটার জ্বলে গিয়েছিলো ।

কুসুমের বাবা
তৃতীয় দিন কুসুমকে নিয়ে হাঁটতে বের হলেন ।
বাবা-মেয়ে দেখলো,
বড় সাহেব ও মিঁয়া সাহেব গোশতে ভরা অনেকগুলো পোঁটলা ডাস্টবিনে ফেলছেন ।
বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা সব গোশত নষ্ট হয়ে গিয়েছে ।
ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুরকে হামলে পড়তে দেখে কুসুম বলল, বাবা তারা কি
কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করেছিলেন ?

পাশ থেকে মিঁয়া সাহেব ও হাজী সাহেব ছোট মেয়েটির কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন।

হ্যাঁ, এটিই আমাদের সমাজের
অধিকাংশ মানুষের বাস্তবচিত্র ।
আমরা যেন মিঁয়া সাহেব আর বড় সাহেবদের মতো না হই। লাইনে দাঁড় করিয়ে নয় বরং
(সম্ভব হলে) অভাবীদের ঘরে ঘরে কুরবানীর গোশত
পোঁছে দেই ।

আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশায় ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত নেক আ’মল গুলো কবুল করুন ।
আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো যেন মাফ করে দেন-
আমিন।

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১