আমার অবস্থান কোথায় মা?
মোঃ আহসান উল্যাহঃ
প্রিয়, গর্ভধারণী শুন আমার কথা…….. এক ফোটা বীর্য যখন তোমার জরায়ূতে ঠাই পেয়েছিলো সেখানে আমিও ছিলাম। লাখ লাখ শুক্রানুর মধ্যে আমিও লুকিয়ে ছিলাম এক সাগরের মাঝে।আমরা সবাই দৌড় প্রতিযোগিতায় মত্ত ছিলাম।কে কাকে হারিয়ে দিয়ে প্রথম হবো।সে এক বিরাট যুদ্ধ, শুধু যুদ্ধই ছিলোনা মা সে এক মরণ খেলা।যে জিতবে সেই শুধু বাঁচবে,বাকি সবাইকেই মরতে হবে….. . জানো মা, জীবনের সাথে যুদ্ধ করে সেদিন আমিই জয় লাভ করেছিলাম। তুমি বিশ্বাস করো মা,,, আমার মতো খুশি সেদিন আর কেউ হতে পারিনি। আমিই সেদিন ডিম্বানুকে ভেদ করে জয়ের পতাকা উড়িয়ে ছিলাম।সেখানেও কত ভয়, যদি এ যুদ্ধে টিকে না থাকতে পারি। মাগো,,, আস্তে আস্তে আমি পানি বিন্দু থেকে রক্ত কনিকায় রুপ নিলাম।সময়ের গতিতে আমি পূর্ণতা পেতে থাকলাম।ধীরে ধীরে মাংস পিন্ড থেকে আমার হাত,পা,নখ গজাতে শুরু করলো।মাঝে মাঝে আমার কচি নখের স্পর্শে তুমি শিউড়ে উঠতে।আমার কিযে ভালো লাগতো মা, বলে বুঝাতে পারবো না . . . মাগো,,, এখনো আমার চোখ ফোটেনি।আমি নিজেকেই দেখি নাই।মাগো মা! আজ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।বাঁচাও মা একটু বাঁচাও আমাকে….. কে শোনে আমার চিৎকার।আমি যে আজ কারোর আপন কেউ নই!!আমি বুঝতে পেরেছি, আমি কারোর উষ্ণ প্রেমের লীলা খেলার আগাছা! কেউ পাশ থেকে বলছে,ছিড়ে ফেলুন ডাক্তার। মেরে ফেলুন ওকে।আমার বুচতে বাকি রইলো না উনিই আমার অনাগত বাবা।আমি চিৎকার করে বলতে চাচ্ছিলাম আমাকে মেরোনা… আমি কখনো তোমাদের বাবা মা বলে পরিচয় দিবোনা।তবুও আমায় মেরোনা।আমাকে একটি বার পৃথিবী দেখতে দাও, আমায় মেরোনা। . কিন্তু একটি সময় আমার কান্না থামিয়ে দিলাম, যখন দেখলাম আমাকে বাঁচাতে তোমারও কোন ইচ্ছা নেই মা।আর ইচ্ছা থকবেও বা কেনো,তুমিও তো উষ্ণ প্রেমের রঙ্গলিলায় মেতে ছিলে।একটু সুখের আশায়!! . . এবার আমার শরীরকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো তোমার শরীর থেকে।আমার শরীর থেকে প্রাণ বায়ু বের হয়ে যাচ্ছিলো।আমি কষ্টে হাউ মাউ করে কান্না করছিলাম। ঘৃণা হচ্ছিলো এই পৃথিবীর মানুষের উপর। ঘৃণা হচ্ছিলো এই পশু সমতুল্য মা- বাবার উপর।একটি সময় আমি তোমাদের ঝামেলা মুক্ত করে শেষ হয়ে গেলাম।আমার শেষ জায়গা এখন এক পচাঁ নর্দমায়!আমি এখন এক পচাঁ নর্দমার কীট!! ভালো থেকো মা!.. ভালো থেকো বাবা!…..
আরো পড়ুন: