November 15, 2019, 7:44 am

#

লাকসামে চেয়ারম্যান ও সচিবের স্বাক্ষর এবং সীল নকল করেও ৫ হাজার টাকায় ভূয়া জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দিলেন ইউপি ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা প্রদীপ।

লাকসামে চেয়ারম্যান ও সচিবের স্বাক্ষর এবং সীল নকল করেও ৫ হাজার টাকায় ভূয়া জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দিলেন ইউপি ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা প্রদীপ।

এম এ কাদের অপুঃ

কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানাধীন ১ নং বাকই ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা প্রদীপ একই ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের সোলাইমানের ছেলে রাকিবের জন্মনিবন্ধনের বয়ষ বাড়ানোর জন্য ৫ হাজার টাকা নিয়ে ইউনিয়ন সচিব ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সিল নকল করে বাড়িয়ে দিলেন জন্মনিবন্ধন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ সনদ।

বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নটি লাকসাম উপজেলার একটি অন্যতম ইউনিয়ন, এই ইউনিয়নে টাকা ৪ বারের মত চেয়ারম্যান হয়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ইউনিয়য়ন চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল।

দীর্ঘদিন যাবত এই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করেন এই প্রদীপ, তার বিরুদ্ধে নানান সময় নানান অভিযোগ থাকলেও সরকার দলীয় কর্মী হওয়ায় বার বার সরকারি কাজের অনিয়মে ধরা খাইলেও পার পেয়ে যায়।

এর আগে তারাপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা থেকেও ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে জন্মনিবন্ধনের তারিখ বাড়িয়ে ১৬ বছরের মেয়েকে ১৮ বছর ৫ মাস বানিয়ে বিয়ের কাজে সহযোগীতা করেন এই প্রদীপ।

বাংলাদেশ সরকার যেখানে ১৮ বছরের নিচে কোন মেয়েকে বিবাহ দেওয়ার জন্য নিষেধ করেছেন, সেখানে সরকারের তোয়াক্কা না করে প্রদীপ নিজেই জন্মনিবন্ধন বাড়িয়ে দিয়ে অমান্য করছে সরকারের আইন। তাহলে কি সরকারের কোন আইনই মানছেনা প্রদীপ নামক অন্ধকার জগত?

এই ইয়নিয়নের অনেকেরই অভিযোগ আছে এই প্রদীপের বিরুদ্ধে, অযথায় মানুষ কে হয়রানি করা এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় করার বহু অভিযোগ থাকলেও সরকার যেখানে প্রতিটি মানুষ কে ডিজিটাল সেবা দেওয়ার জন্য ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে আসছেন, সেখানে প্রদীপ মনে করে কে এই সরকার? মন্ত্রনালয়ে বসে বসে হুকুম দিলেই কি আমরা মানবো নাকি? দেখি কে কি করতে পারে?

প্রদীপের এমন স্পর্ধা দেখে দিন দিন মানুষ হয়রানী স্বীকার হয়ে অত্র ইউনিয়নটি বহু আগে বদনামের খাতায় নাম লেখালেও মিষ্টভাষী ও জন দরদী চেয়ারম্যান আবদুল আউয়ালের কারনে কেউই কখনো মুখ খুলেনাই। এই সুযোগে প্রদীপ মনে করছে কেউ তো কিছু বলছেই না আমি এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে নেই।

সরেজমিনে গিয়ে প্রদীপের কাছে জানতে চাইলে, প্রদীপ সামান্য কিছু আইন দেখিয়ে ৫ মিনিটের মাথায় উঠে গিয়ে বলেন, আমার মা স্ট্রোক করে হাসপাতালে আছে তাই আমাকে জরুরী ভাবে চলে যেতে হচ্ছে। যখন প্রদীপ ডিজিটাল সেন্টার থেকে বাহির হয়ে যায়, তখন সময় মাত্র ১২ঃ৫০ মিনিট।

সরকারের নির্ধারণ করা কোন আইন বা টাইম কোন ভাবেই পরোয়ানা করছেনা এই প্রদীপ। কিসের শক্তিতে সময় অসময়ে প্রদীপের প্রদীপ জ্বালিয়ে ধোকা দিচ্ছে সরকার কে, তাহলে কি সরকার এর কোন বিচার করবেনা?? প্রদীপ কি সব সময় এগুলোই করে যাবে? যদি তাই করে থাকে তাহলে মানুষকে হয়রানীর দায় কি সরকারকেই নিতে হবে?

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্যকারী কি পার পেয়ে যাবে? তাকে কি আইনের আওতায় আনা হবেনা? তাহলে প্রদীপ কি আইনেরও উপরে?

চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল জানান, আমি এই ব্যাপারের কিছুই জানিনা, তবে ছেলেটি আজকে কয়েকদিন যাবত বোর্ড অফিসে আসছে, আর জন্মনিবন্ধন দিবে ইউনিয়ন সচিব আর কেউই নয়, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা কোন ভাবেই জন্মনিবন্ধন দিতে পারেনা।

ইউনিয়ন সচিব মহিন উদ্দিন জানান, আমার স্বাক্ষর ও সীল নকল করার দায়ে আমি আর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো, দরকার হলে আমি মামলা করবো।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম সাইফুল ইসলাম কে তার মোবাইল নাম্বারে পাওয়া না গেলেও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

প্রদীপের এমন অপকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২য় পর্বঃ

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০