November 15, 2019, 7:30 am

#

চেয়ারম্যান এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ, ডিসি অফিসে তলব

চেয়ারম্যান এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ, ডিসি অফিসে তলব

এম এ কাদের অপুঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “মমতাময়ী মা” শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দেন। এ সিদ্ধান্তকে দেশের সর্বোস্তরের জনগণ সাধুবাদ জানান। অপরাধী দলীয় হোক আর বিরোধী দলের হোক, কাউকে ছাড় দিবে না, সাফ জানিয়েছেন। তৃণমূলের একজন সাধারণ কর্মীও অভিযোগ করলে, তা প্রমানিত হলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। তেমনি বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত মনোহরগজ্ঞ উপজেলার ৯নং উত্তর হাওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান হিরনের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ, ডিসি অফিসে তলব। চেয়ারম্যান তার পেশীশক্তি প্রয়োগ করে নানান দূর্নীতি করে বেড়াচ্ছে। তন্মধ্যে- সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, জন্ম ও মৃত্যু সনদে অতিরিক্ত টাকা আদায়, সম্মানি ভাতা প্রদান বন্ধ ঘোষণা, সুবিধা ভোগীদের ভুয়া তালিকা, নিখোঁজ ইউ.পি. সদস্যের ক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষর প্রদান, ভি.জি.ডি. চাল বিতরণ বন্ধ ঘোষণা, সকল বাজারের ইজারা নিজ দখলে, সার্বক্ষনিক কার্যালয়ে অনুপস্থিত, ব্রীজ, কালভার্টের টাকা আত্মসাৎ, নারী ইউ.পি. সদস্যদের অবমাননা ও অবমূল্যায়ন অভিযোগ গুলো অন্যতম। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্রটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ-
১/ সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎঃ ক) অত্র ইউনিয়নের অন্তর্গত নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশনের দক্ষিণ- পশ্চিম পাশে হাসেম মার্কেটের উত্তর পাশে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৬ শতক সম্পত্তিতে অবৈধভাবে সীমানা বেষ্টনী প্রস্তুত কোরিয়া দখল গ্রহণ করিয়াছেন। যাহাতে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হইবে। খ) নাথেরপেটুয়া ডিগ্রী কলেজের উত্তর-পশ্চিম গেইট সংলগ্ন সড়ক ও জনপদের (সিএনবি) পূর্বপাশে সরকারি মালিকানাধীন ১২ শতক সম্পত্তিতে ইতিমধ্যেই ৩টি দোকান স্থাপন করিয়াছেন, যাহার ২টি দোকান নির্মাণ আছে। গ) নাথেরপেটুয়া স্টেশন মার্কেটের শেরাটন হোটেল এর পূর্ব পাশে সড়ক ও জনপদের ২০ শতক সম্পত্তিটি অবৈধভাবে দখল করিয়া নিয়েছেন। ঘ) নাথেরপেটুয়া রেলওয়ে সুপারমার্কেটের উত্তর পার্শে ৬০ শতক সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল করে জনগণের কাছে প্লট হিসেবে বিক্রি করে চলেছেন।
২/ জন্ম ও মৃত্যু সনদে অতিরিক্ত টাকা আদায়ঃ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জন্ম ও মৃত্যু সনদের নির্ধারিত ফি কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে একক সিদ্ধান্তে উত্তর হাওলা ইউনিয়ন পরিষদের যেকোনো সনদ ৩০০ টাকা হইতে ১০০০ টাকা পর্যন্ত এবং মৃত্যু সনদ ৫০০ টাকা হইতে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। টাকা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামিয়া মার্কেটের অপরুপা কসমেটিকস হইতে ছাপানো একটি টাকা প্রাপ্তির রশিদ ব্যবহার করা হয়। যাহাতে চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব যৌথ স্বাক্ষর প্রদান করেন।
৩/ সম্মানী ভাতা প্রদান বন্ধ ঘোষণাঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ হইতে ইউ.পি. সদস্যদের সরকারি অংশ ৩৬০০ টাকা এবং ইউপি অংশ ৪৪০০ টাকা, সর্বমোট ৮০০০ টাকা সম্মানী ভাতা অনুমোদন হইলেও বিগত নির্বাচনে জয়লাভের পর অদ্যবধি চেয়ারম্যান অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ইউ.পি. সদস্যের সম্মানী ভাতা বন্ধ ঘোষণা করিয়াছেন। অত্র বিষয়ে ইউ.পি. সদস্যগণ বারবার চেয়ারম্যান সাহেবকে অনুরোধ করলেও তিনি ইউ.পি. সদস্যের কোনরূপ সম্মানী ভাতা প্রদান না করিয়া সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করিয়াছেন।
৪/ সুবিধা ভোগীদের ভুয়া তালিকাঃ বিগত নির্বাচনের পর হইতে চেয়ারম্যান প্রতিপয় ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করিয়া বিজিডি সহ বিভিন্ন সুবিধার টাকা এককভাবে আত্মসাৎ করিয়া আসিতেছেন।
৫/ নিখোঁজ ইউ.পি. সদস্যের ক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষর প্রদানঃ দীর্ঘদিন যাবৎ উত্তর হাওলা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি. সদস্য জাহাঙ্গীর আলম অজ্ঞাত স্থানে লুকায়িত অথবা নিখোঁজ থাকায় অত্র বিষয়ে স্থানীয় সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ না করিয়া চেয়ারম্যান তাহার অবৈধ কাজ সমূহকে বৈধতা প্রদানের লক্ষ্যে স্থানীয় কাউলীপাড়া গ্রামের জনৈক ফয়জুল্লাহ নামক ব্যক্তিকে ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি. সদস্যের শূন্যস্থান মৌখিকভাবে ইউ.পি. সদস্য হিসেবে ঘোষণা এবং ফয়েজুল্লাহকে দ্বারা তিনি নিখোঁজ ইউ.পি. সদস্যের সকল সাক্ষর ও কার্য সম্পাদন করান।
৬/ ভি.জি.ডির চাল বিতরণ বন্ধ ঘোষণাঃ চেয়ারম্যান মৌখিকভাবে বিগত ছয় মাস যাবত ভি.জি.ডি. চাল বিতরণ বন্ধ ঘোষণা করিয়াছেন। তাহার অত্র সিদ্ধান্তের কারণে একদিকে অসহায় দরিদ্র মানুষগণ সরকারের সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অপরদিকে বিতরণ না হওয়ায় সরকারি চাল বিনষ্ট হইয়া পড়িয়াছে।
৭/ সকল বাজারের ইজারা নিজ দখলেঃ ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজারসমূহ চেয়ারম্যান নিজ আত্মীয় স্বজন ও লালিত-পালিত সন্ত্রাসীগণ দ্বারা জোড়পূর্বক ইজারা গ্রহণ করিয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করিয়া আসিতেছেন। অত্র বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করিলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হইবে।
৮/ সার্বক্ষণিক কার্যালয় অনুপস্থিতঃ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অদ্যবধি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দিনের আলোতে উপস্থিত হন নাই। তিনি বেশিরভাগ সময়ে তার কার্যালয়ে অবস্থান করেন না, জরুরি প্রয়োজনে রাত ৮ ঘটিকার পর চিহ্নিত সন্ত্রাসীগণসহ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
৯/ ব্রিজ-কালভার্ট এর টাকা আত্মসাৎঃ চেয়ারম্যান ইউনিয়ন ব্যাপি অসংখ্য ব্রীজ ও কালভার্টের প্রকল্প সম্পূর্ণ না করিয়া সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করিয়াছেন। হাতিমারা পশ্চিমপাড়া বাদশা জমাদারের বাড়ির ব্রীজসহ অন্যান্য প্রকল্পসমূহ সরেজমিনে তদন্ত করিলে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাইবে।
১০/ নারী সদস্যদের অবমাননা ও অবমূল্যায়নঃ ইউনিয়ন পরিষদের কোন ক্ষেত্রেই নারী সদস্যদের মূল্যায়ন করা হয় না। সরকারি কাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, যে কোন জরিপ, অনুদানের তালিকা, এমনকি পরিষদের কোন বৈঠকে নারী সদস্যদের নোটিশ বা মতামত নেওয়া হয় না। সম্মানীভাতা বিহীন অবস্থায় সকল নারী সদস্যগণ অত্র বিষয়ে মাননীয় জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ দাখিল করিলেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার পায় নাই। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান হিরনেকে একাধিক বার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া খানম বলেন, ‘ভুক্তভোগী ইউপি নারী সদস্য চেয়ারম্যান হিরনের বিরুদ্ধে ভাতা উত্তোলনে বাধাসহ ১০টিরবেশি অভিযোগ করেছেন। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই অভিযোগ গুলোর শুনানির জন্য ওই ইউনিয়নে গিয়েছি। তৃতীয়বারের মতো গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুই পক্ষকে ডেকে শুনানি করেছি। আমি এই বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিয়ে দেবো

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০