December 15, 2019, 1:49 pm

#

চট্টগ্রাম যানযট মুক্তের আওতায়”নভেম্বরে আসছে বিআরটিসি ১০০ এসি বাস

চট্টগ্রাম যানযট মুক্তের আওতায়”নভেম্বরে আসছে বিআরটিসি ১০০ এসি বাস

মাহিন উদ্দিন মিয়াজি : চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টেজ। গতকাল টাইগারপাস সিটি মেয়রের কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে তাঁরা উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সিটি মেয়র জার্মান রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জার্মানির সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা জার্মানিতে ছিলেন বলে ঘাতক চক্রের হাত থেকে তাঁরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন।

এই দুঃসময়ে তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে জার্মান সরকার অকৃত্রিম বন্ধুত্বের পরিচয় দেন। তজ্জন্য জার্মান সরকার এবং সেই দেশের জনগণের প্রতি কৃর্তজ্ঞতা জানান সিটি মেয়র। মেয়র বলেন স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জার্মানি। সামাজিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সবক্ষেত্রে ইউরোপের এই দেশটি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিশ্বস্ত সঙ্গী।এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টরে জার্মানীর বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মেয়র চসিকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূতপিটার নগর আয়তন ও সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র কর্পোরেশনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশদ বিবরন তুলে ধরেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত মি. পিটার চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কথা উল্লেখ করে বলেন, সাগর, নদী ও পাহাড়, পর্বত বেষ্টিত এই শহর যে কোনো অতিথিকে মুগ্ধ করে।
জার্মান রাষ্ট্রদূত নগরীর ট্রাফিক ম্যানেজম্যান্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন এ খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ নগরীর তিনটি সড়কে এসি বাস চালু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ১শ’ টি এসি গাড়ি কালুরঘাট থেকে এয়ারপোর্ট, হাটহাজারী থেকে লালদীঘি এবং ভাটিয়ারী থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এ তিন সড়কে বাস চলাচল করবে। এতে করে ছোট ছোট যানবাহনের উপর যাত্রীর চাপ কমে আসবে বলে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন। বৈঠকে মেট্রোরেল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, হ্যোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়,নগর অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মেয়র বলেন জার্মান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র। এদেশের সার্বিক উন্নয়নে আগামীতেও জার্মান এগিয়ে আসবে। এমনকি বিশেষয়িত শিল্পাঞ্চলে জার্মান বিনিয়োগকারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। জার্মানির বেসরকারী উদ্যোক্তরা শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসলে চসিকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মাক সহযোগিতা দেয়ার কথা রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন সিটি মেয়র। জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত এ দেশের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে বলেন, অংশীদারিত্বের চেতনা নিয়ে জার্মানি সর্বদা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন বাংলাদেশ বিশাল সম্ভাবনার দেশ। দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বহু খাত রয়েছে। অনেক জার্মান কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে রাষ্ট্রদূত সিটি মেয়রকে জানান। জ্ঞান, বিজ্ঞানও গবেষণার কথা উল্লেথ করে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, সারা পৃথিবীতেই জার্মান ডিগ্রির কদর রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার জন্য জার্মানিকে স্বর্গ বলা হয়। জার্মানির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এখানে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি লাগে না। সেই সাথে নানা ধরনের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। পড়াশোনা শেষে স্থায়ী চাকরি পাওয়া যায়। তাছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে ইউরোপের ২৬টি দেশে গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি সিটি মেয়রকে জানান।
এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম থেকে জার্মানিতে অধ্যায়ন, গবেষণা করতে ইচ্ছুক সকল শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে জার্মান দুতাবাস সর্বাত্মাক সহযোগিতা প্রদান করবে। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত পিটার দু’দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম। পরে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন জার্মান রাষ্ট্রদূতকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

#

     আরো পড়ুন:

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১